Monday, November 18, 2019

আকাশে ঘুরে বেড়াতে চাইলে

ফারজানা আক্তার
এয়ার হোস্টেস বা কেবিন ক্রু এই পেশায় যা আছে- অ্যাডভেঞ্চার, গল্গ্যামার আর উচ্চ আয়ের সুযোগ। কেবল প্রয়োজন ইচ্ছা, আত্মবিশ্বাস ও ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা। দিন দিন ক্যারিয়ার হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এয়ার হোস্টেস বা কেবিন ক্রু। সঙ্গে সঙ্গে পেশাটি হয়ে উঠেছে প্রতিযোগিতামূলক। তবে কিছু প্রশিক্ষণ কোর্স করে বাংলাদেশ বিমান ও বেসরকারি খাতে কর্মরত এয়ারলাইন্সেই চাকরির সুযোগ নেওযা যায়। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অন্যান্য এযারলাইন্সে সাফল্যের এ ক্যারিয়ারে যুক্ত রয়েছে বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা।

কেবিন-ক্রু বা এয়ার হোস্টেস। শত শত যাত্রী নিয়ে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে উড়ে বেড়ানোর কাজ করছে বিশ্বের হাজার হাজার নারী-পুরুষ। আপনিও হতে পারেন এ পেশার একজন। শুধু চাই আত্মবিশ্বাস ও পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ। আপনার লক্ষ্য আপনারই হাতের মুঠোয়। এয়ার হোস্টেস হিসেবে জীবন গড়তে চাইলে আমাদের দেশেই করা যায় কেবিন-ক্রু বিষয়ে একটি শর্ট কোর্স। এর পরেই এ পেশায় জীবন গড়তে দুয়ার খুলে যাবে সারা বিশ্বের প্রায় ৬ হাজার এয়ারলাইন্স কোম্পানির। এয়ার হোস্টেসরা বিনা টাকায় ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি বেতন হিসেবেও পাচ্ছেন মোটা অঙ্কের টাকা! আমাদের দেশের শত শত ছেলেমেয়ে প্রতিদিন উড়ে চলেছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে। আমাদের দেশে এই পেশায় আগ্রহীদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে কাজ করছে ইউনাইটেড কলেজ অব এভিয়েশন, সায়েন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট। এ কলেজটিই দেশের একমাত্র উড়োজাহাজ চলাচল বিষয়ক প্রতিষ্ঠান, যারা নিজস্ব ক্যাম্পাসে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটি এবার কেবিন ক্রু বা এয়ার হোস্টেস কোর্সের নতুন ব্যাচ শুরু। ৩ মাস মেয়াদের এ কোর্সটির ক্লাস হবে প্রতি সপ্তাহে শুক্র ও শনিবার।

যোগ্যতা : এয়ার হোস্টেস বা কেবিন ক্রু হতে চাইলে কমপক্ষে এসএসসি বা ও-লেভেল পাস হতে হবে। উচ্চতা ছেলেদের ক্ষেত্রে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি আর মেয়েদের ক্ষেত্রে ৫ ফুট। বয়স হতে হবে ১৬ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। কেবিন-ক্রু বা এয়ার হোস্টেস হতে চাইলে অধিক সুন্দর বা সুন্দরী হতে হবে-এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। পরিচ্ছন্ন, রুচিশীল, কাজের প্রতি আন্তরিকতা, যে কোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে স্বাভাবিক রাখা, উপস্থিত বুদ্ধি, ধৈর্য ও সহনশীলতা, মানুষের সঙ্গে মেশার যোগ্যতা যে কাউকেই নিয়ে যেতে পারে এ পেশায় সফলতার শীর্ষে। এ পেশায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দক্ষ শিক্ষক দ্বারা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ভালো রেজাল্ট করা ছাত্রছাত্রীদের এয়ারলাইন্সে চাকরির সুযোগ করে দেওয়া হয়। রয়েছে নিজস্ব ক্যাম্পাস, স্বয়ংসম্পূর্ণ ল্যাব ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম।

প্রশিক্ষণকালে শিক্ষার্থীরা বিমানের ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা, ঢাকা-সিলেট-ঢাকা ও ঢাকা-রাজশাহী-ঢাকা রুটে ফ্লাই করে প্রশিক্ষণ নেবেন।

যোগাযোগ :বাড়ি-১৬, রোড-৪, সেক্টর-৩, উত্তরা, ঢাকা এ ঠিকানায়। ফোন : ০১৭৪৯৩০৬০৯০, ০১৯৭০৬০৮০৭১। া
www.uca.edu.bd
সমকাল।

মেঘালয় পাহাড়ের কাছ

নাজমুল মৃধা
মাঝে মাঝেই আমাদের মনে হয়, দূরে কোথাও হারিয়ে যেতে পারলে মন্দ হতো না। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুত্ব চার বছর শেষ হয়ে পাঁচ বছরে পর্দাপণ করেছে। নয়জনের বন্ধুত্বে চার বছরে এতটুকু চির ধরাতে পারেনি। বন্ধুত্বকে সজীব করে রাখতে আমরা প্রায় সময় দেশের বিভিন্ন জেলায় ভ্রমণে বের হই। এবার যেমন দেশের দুটি সীমান্তবর্তী জেলা নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জ ভ্রমণ করে এলাম।

রাত সাড়ে ১০টার বাসে করে রাজশাহী থেকে ময়মনসিংহগামী শামীম পরিবহনের একটি বাসে চড়ে আমরা নয়জন ময়মনসিংহে যাই। সেখান থেকেই শুরু আমাদের অ্যাডভেঞ্চার। পরে ময়মনসিংহ ব্রিজ থেকে রিজার্ভ সিএনজি করে রওনা হই নেত্রকোনা জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা কলমাকান্দা গ্রামের পথে। ৭ নভেম্বর সকালে সিএনজি দিয়ে আমাদের বাড়িতে পৌঁছাই আমরা। হেমন্তের অপরূপ রূপে গ্রাম সেজেছে নতুন বৌয়ের সাজ।

নেত্রকোনা জেলা শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরে কলমাকান্দায় আমার গ্রাম। মাঠে সোনালি ধান আর মেঘালয় পাহাড়ের মিতালি গ্রামটিকে করে তুলেছে একখণ্ড সবুজের বুকে এক টুকরো সোনার খনি। সকাল ৯টায় যখন আমরা গ্রামে পৌঁছাই, তখনও হেমন্তের শিশির বিদায় নেয়নি। হালকা শীতের আগমন আমাদের ক্লান্ত দেহে শান্তির পরশ বুলিয়ে দিয়ে গ্রামটি যেন আমাদের গ্রহণ করেছে।

সারারাত গাড়িতে ফোন চাপাচাপির পরে সবার ফোনের চার্জও শেষ। গ্রামের এক কোণে দোকানে গিয়ে ওদের ফোন চার্জে দিতে হয়েছিল। দুপুর পর্যন্ত ঘুমিয়ে আমরা আমার বাড়ির সামনে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ের কাছে ঘুরতে যাই। আমার বাড়ি থেকে পাঁচ মিনিট ধানক্ষেত ধরে উত্তর দিকে হাঁটলেই ভারতের মেঘালয় রাজ্য। মেঘালয় পাহাড়ের বিশালতা বন্ধুদের ক্লান্তি দূর করে ওদের খানিক সময়ের জন্য ভাবুক করে তুলেছিল। সারাদিন গ্রাম আর পাহাড়ি এলাকা ঘুরে আমরা গ্রামের বাজারে যাই রাতে। আমাদের নয়জনের মধ্যে তিনজন নারী সদস্যও ছিল।

পরদিন সকালে আমার নানাবাড়িতে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া আর গানের আড্ডা দিয়ে বিকেলে চলে যাই সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার ভারতের সীমান্তঘেঁষা এলাকা মহিষখোলা গ্রামে। এ অঞ্চলটা এতটাই প্রত্যন্ত যে পুরোটাই মেঠোপথ, এখানে অটো এবং সিএনজি চলতে পারে না। মহিষখোলায় যেতে আমাদের বাজার থেকে ভাড়ায় বাইক পাওয়া যায়। পরদিন সকালে পাঁচটি ভাড়া বাইক নিয়ে রওনা হই সুনামগঞ্জের দর্শনীয় স্থান নীলাদ্রি, বারাক্কা টিলা, জাদুকাটা নদী এবং শিমুলবাগান দেখতে। পূর্বদিকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ের নিচ দিয়ে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার রাস্তা বাইকে করে যেতে হয়। অল্প একটু রাস্তা পাকা হলেও ৩৫ কিলোমিটারের মতো রাস্তা কাঁচা।

তার ওপর যেদিন আমরা ঘুরতে বের হই, সেদিন আবার ঘূর্ণিঝড় 'বুলবুল' পুরো দেশে আঘাত হেনেছে। মাথার ওপর বিষণ্ণ আকাশ আর নিচে এক হাঁটু কাদার রাজত্বকে অবহেলা করে আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাই। হাতের বাম পাশে মেঘালয় পাহাড় আর বাম পাশে টাঙ্গুয়ার হাওরের অপরূপ দৃশ্য দেখতে দেখতেই আমাদের গন্তব্যের দিকে যেতে থাকি। দিনভর ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে ভিজে পাহাড়-হাওরের মিতালিতে সমৃদ্ধ সুনামগঞ্জ জেলা শেষ করে আমরা রাতে বাড়ি ফিরি। এর পরদিন আমাদের গন্তব্য নেত্রকোনা জেলার দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করা।

সীমান্তবর্তী সমৃদ্ধ জেলা দুর্গাপুরের বিজয়পুরের চীনামাটির পাহাড়ে যাই পরদিন। এ ছাড়া সোমেশ্বরী নদীর অপরূপ ঐশ্বর্য আমাদের চোখ এড়াতে পারেনি; পরদিন সকালেই আমাদের ফিরতে হবে প্রিয় বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। া 
 
সমকাল।

বাতাসে শীতের আমেজ

বাতাসে শীতের আমেজ


জয়নাল আবেদীন
কাগজে-কলমে শীতকালের বাকি আরও এক মাস। কিন্তু প্রকৃতিতে আমেজ শুরু হয়ে গেছে এখনই। শীতপ্রত্যাশী বাঙালি মোটা কাপড় নামাতে শুরু করেছে এরই মধ্যে। শহরে সকালের সূর্য মুখ দেখাতে চেয়েও ব্যর্থ। কুয়াশা ভেদ করে দুপুর নাগাদ যখন উঁকি দেয়, তখন আর তেজ থাকে না। মিষ্টি রোদের শেষে বিকেল গড়াতেই হিমশীতল হাওয়া। ফলে অগ্রহায়ণের শুরুতেই প্রকৃতি হয়ে উঠেছে শীতময়।

ঋতুবৈচিত্র্যের শৃঙ্খল ভেঙে হেমন্তের বাতাসে শীতের আমেজ বয়ে গেলেও এখনই জাঁকিয়ে শীত পড়ার সম্ভাবনা দেখছেন না আবহাওয়াবিদরা। তারা বলছেন, চলতি সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও কমবে। তবে শীতের পূর্ণ ছোঁয়া পেতে অপেক্ষা করতে হবে আরও অন্তত দুই সপ্তাহ। এদিকে, চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ঠান্ডা হাওয়া বইতে শুরু করেছে। তাপমাত্রা নেমে আসছে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে।

মূলত ভূমধ্যসাগরীয় এলাকা থেকে ঠান্ডা ও ভারি হাওয়া আফগানিস্তান, পাকিস্তান হয়ে কাশ্মীরে ঢুকলে তবেই সেটি হিমালয়ে ধাক্কা খেয়ে পঞ্চগড় দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকে। নভেম্বরের শুরুতে উত্তর ভারত এবং নেপালের দিকে সেরকম কিছু ঝঞ্ঝা ছুটে না আসায় শীতের তীব্রতা বাড়েনি। মাঝে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে কয়েকদিন শীতের  আমেজ থাকলেও পরে আবার তাপমাত্রা বাড়তে থাকে।

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক সমকালকে বলেন, 'এই সপ্তাহে তাপমাত্রা আরেকটু কমতে পারে। তারপর কিছুদিন অপরিবর্তিত থাকবে। শীত পুরোপুরি জেঁকে বসবে ডিসেম্বরের শুরু থেকে। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়বে কুয়াশাও।'

তিনি আরও বলেন, 'সূর্য আমাদের থেকে দক্ষিণে সরে যাচ্ছে। ফলে তাপমাত্রা আর বাড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে রাজধানীতে বরাবরের মতোই শীতের আমেজ কিছুটা কম থাকবে। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে শীতের মাত্রা বেড়েছে।'

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, দেশের ওপর উত্তর-পশ্চিমা বায়ু বিরাজ করছে। এ কারণে উত্তরাঞ্চলে শীতের



আমেজ শুরু হয়ে গেছে। এর আগে মৌসুমি বায়ু দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলো অতিক্রম করে বাংলাদেশের সীমানা থেকে বিদায় নেয়।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষা হুড়মুড় করে এলেও শীত আসে পর্যায়ক্রমে। ক'দিন ঠান্ডা, ক'দিন গরম। নরম-গরম এই ছন্দে চলতে চলতে শীতের পাকাপাকি আগমন ঘটে। তবে এবার শীত একটু দেরিতেই নামছে। বিশ্নেষণ করলে দেখা যায়, গত বছর অক্টোবরের শেষ সপ্তাহেই উত্তরবঙ্গে শীত শুরু হয়। সে হিসাবে এবার প্রায় তিন সপ্তাহ দেরিতে শুরু হলো শীতের আমেজ।

এদিকে, উত্তরবঙ্গের মানুষ শীতের কাপড় নামাতে শুরু করেছে বলে জানান রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান। তিনি সমকালকে বলেন, 'উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় শীতের তীব্রতা চলতি সপ্তাহে বেড়েছে। হিমালয় কাছে থাকার কারণে এদিকে দ্রুতই শীত নামে।'

তিনি আরও বলেন, বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ রয়েছে। তাপমাত্রায় প্রভাব রয়েছে এর। তেঁতুলিয়ার দিকে ১৬ এবং রংপুরে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসছে। দিনের একটি অংশে শীতের তীব্রতা কিছুটা কমে।

এর আগে নভেম্বর ও ডিসেম্বরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়, নভেম্বরে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমতে থাকবে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। সে সময় তাপমাত্রা ছয় থেকে আট ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামতে পারে।

এদিকে, গ্রামের বিস্তীর্ণ প্রান্তরে বিকেল নামতেই দোল খাওয়া ফসল ভিজে উঠছে কুয়াশায়। কোথাও কোথাও ফসল ঘরে তোলার আমেজও দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ে চলছে আয়োজনের তোড়জোড়। 
 
সমকাল।

সেন্টমার্টিন রক্ষায় সমুদ্র বাঁচাও আন্দোলন জরুরি

সেন্ট মার্টিন সমুদ্র সৈকতে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক সংস্থা ওশান কনজারভেন্সি ও কেওক্রাডং বাংলাদেশের আয়োজনে ইন্টারন্যাশনাল কোস্টাল ক্লিনআপ দিবস উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন স্থানীয় স্কুলশিক্ষার্থীরা। ছবি: মোস্তাফিজুর রহমান
সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। অযত্ন, অবহেলা আর অজ্ঞতার কারণে দ্বীপটি এখন হুমকির মুখে। কয়েক বছর হলো এর উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে ভাঙ্গন ধরেছে। সেই সাথে ধারণ ক্ষমতার বাইরে পর্যটকদের ভীড় আর সইতে পারছে না পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার এই দ্বীপটি। বিভিন্ন উদ্ভিদরাজীসহ বহু প্রাণী ইতিমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। সামুদ্রিক কাছিমসহ বিভিন্ন প্রাণীর বিচরণ অনেক কমে গেছে।
বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমার সীমান্তের পার্শবর্তী ৮.৩ বর্গকিলোমিটার জুড়ে এটির অবস্থান। দ্বীপটিতে স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা প্রায় ৯ হাজার। এছাড়া প্রতিদিন গড়ে আরও ৯ হাজার পর্যটক সেখানে অবস্থান করে। ১৮ হাজার মানুষের চাপ নিতে হয় দ্বীপটিকে। চাহিদা মেটাতে বৈদ্যুতিক পাম্প দিয়ে নীচের স্তরের মিষ্টি পানি উত্তোলন, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং খোলা পায়খানা নির্মাণসহ নানা পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড চলছে। শংকটাপন্ন কোরালসহ জীববৈচিত্র্য। চারদিকের বাতাসে দুর্গন্ধ। বলতে গেলে সেন্টমার্টিন এখন মুমূর্ষু।
এসব সমস্যার সমাধান না করে সরকার এখন উল্টো পথে হাঁটছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটনকে বিকশিত করতে বিভিন্ন এলাকার জোনিং করছে। এর আওতায় সেন্টমার্টিনও রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে ওখানে জীববৈচিত্র বলতে আর কিছুই থাকবে না।
নানা জরিপে দেখা গেছে, সেন্টমার্টিন দ্বীপের চারদিকে রয়েছে প্রবাল, পাথর, ঝিুনক, শামুকের খোলস, চুনা পাথরসহ প্রায় কয়েক শত প্রজাতির সামুদ্রিক জীব। দ্বীপের এই দৃশ্য দেখতে ছুটে যাচ্ছে পর্যটকরা। এতে দিন দিন এ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়েছে। গত দুই দশক ধরে এ দুটি দ্বীপের পরিবেশ-প্রতিবেশ সংকটাপন্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সমুদ্রের জীববৈচিত্র সংরক্ষণে কাজ করছে সেভ আওয়ার সী এবং ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি নামক বেশ কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। পরিবেশবাদী এই সংগঠনগুলো বারবার সতর্ক করছে। তারপরও এ নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ নেই সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাদের। দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ এখনো নেই তাদের। আসল ব্যাপারটি হলো সমুদ্রের পরিবেশ একটি ব্যাপক বিষয়। তাই এ নিয়ে পুরোপুরি ধারণা নেই খোদ সংশ্লিষ্টদেরও।
সমুদ্রের জীববৈচিত্র কি জিনিস? সমুদ্রের সাথে আমাদের কি আচরণ করা উচিৎ? তা আমরা কতটুকু জানি? সাধারণ মানুষ হিসেবে বছরে একবার যারা সেন্টমার্টিনে যান তাদের বিষয়টি না জানারই কথা। সমুদ্রে প্লাস্টিক, পলিথিন ফেললে তার সুদূরপ্রসারী কি কি ক্ষতি হতে পারে? সামান্য এই সচেতনা বাড়াতে সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই বলেই মানুষ অজ্ঞ থেকে যাচ্ছে। ফলে দ্বীপটি পড়েছে হুমকির মুখে।
নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণকালে শুকনো খাবার হিসেবে প্লাস্টিক মোড়কজাত চিপস বা বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্যদ্রব্য বহন করেন প্রয়োজন অনুপাতে। সাথে মিনারেল ওয়াটার, জুস, কোল্ডড্রিংসসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় দ্রব্যও থাকে। খাওয়ার পর যত্রতত্র তা ছুড়ে ফেলে। যা প্রতিনিয়ত দ্বীপের অস্তিত্বকে ঝুঁকিতে ফেলছে। নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে সামুদ্রিক কোরালসহ সব ধরনের জীব ও প্রাণীবৈচিত্রে। তাই ধীরে ধীরে দ্বীপের অস্তিস্ব আজ সংকটাপন্ন।
২৪ এপ্রিল ২০১৯, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবনে “বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়নের জন্য সুনীল অর্থনীতি” শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট সমুদ্র বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কাওসার আহমেদ মূল প্রবন্ধে বলেন, সমুদ্র নিয়ে দেশে এখন ১৮টি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। সেখানে তিনি দাবি তোলেন, আলাদা সমুদ্র মন্ত্রণালয় গঠন উন্নত রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য।
কথায় আছে- “অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট”, সমুদ্র নিয়ে ১৮টি মন্ত্রণালয় কাজ করায় অবস্থাটা এমন দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রণালয়ে ব্লু ইকোনোমি বা সুনীল অর্থনীতি সেল গঠন করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এ বিষয়ে সঠিক ধারণা না থাকা এবং সমন্বয়হীনতার কারণে কোনো কাজই হচ্ছে না। সে কারণে বাংলাদেশ সমুদ্র সীমানা জয় করলেও আজো সমুদ্রের সুফল পাচ্ছে না। চোখে পড়ছে না বড় কোনো অর্জন। তাই সমুদ্র বাঁচাও আন্দোলন এখন সময়ের দাবি।
দরকার সমুদ্র স্বাক্ষরতা দিবস। স্কুল, কলেজের সিলেবাসে বাধ্যতামুলক থাকতে হবে সমুদ্র পরিচিতি। তা করা গেলে সেন্টমার্টিনে পিকনিকে যেয়ে সমুদ্রের সাথে কি আচরণ করতে হবে তরুণ প্রজন্ম তা জেনে যাবে। তখন প্যাকেট, পলিথিন, বোতল, পণ্য, ক্যানসহ বিভিন্ন বর্জ্যব্যবস্থাপনার কাজ নিজেরাই করতে শিখবে ট্যুরিস্টরাও। বজায় থাকবে ইকোসিস্টেম। বিদেশী পর্যটকদের সমুদ্রে এসে উল্টো পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে দেখা যায়। অথচ ভিন্ন চিত্র আমাদের বেলায়। অজ্ঞতাই এখানে প্রধান কারণ। তাই সমুদ্র বাঁচাতে এখনই স্বোচ্চার হতে হবে দেশের কোটি শিক্ষিত যুব সমাজকে। এজন্য জরুরি কিছু তথ্যও জেনে রাখা দরকার।
  • সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষায় যেকোনো ধরনের প্লাস্টিক মোড়কজাত খাবার ও ক্যান এবং প্লাস্টিক বোতলসহ প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হওয়া জরুরি।
  • পরিবেশ মন্ত্রণালয়, ট্যুরিজম বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তাদের ঘনঘন সরকারি টাকার তসরুফ করে বিদেশ সফর বাতিল করা দরকার। এর পরিবর্তে তাদেরকে সৈকতে এসে মোটা দাগে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। তাহলে দ্বীপে আসা পর্যটক ও সাধারণ মানুষের মাঝেও সচেতনতা বাড়বে।
  • জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অতিরিক্ত কার্বিন ডাই-অক্সাইড সমুদ্রের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই প্রতিবছর আইলা, সিডর বা বুলবুলের মুখোমুখি হচ্ছি আমরা। ৫০ থেকে ৭০ ভাগ অক্সিজেন আমরা সরাসরি সমুদ্র থেকে পাই। যা বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।
  • সুমদ্র পাড়ে যে পরিমাণ গাছ লাগানোর কথা তা নিয়ে কারো উচ্চবাচ্য নেই। আর রেইন ফরেস্টের ধারণা থেকে অনেক দূরে বাংলাদেশে। তাহলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সমুদ্রকে আমরা কিভাবে কাজে লাগাবো তা এখন বড় প্রশ্ন।
  • প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন জীববৈচিত্র সমৃদ্ধ অঞ্চল৷ কিন্তু পরিবেশবাদী কিছু সংগঠন ছাড়া এর অযত্ন ও অবহেলা নিয়ে কাউকে চিন্তিত দেখা যায় না। সমুদ্র সৈকতে অনুমোদনহীন অপরিকল্পিত নির্মাণকাজের কারণে চিরহরিৎ বৃক্ষসহ বনায়ন উজাড় হচ্ছে।
সমুদ্র সৈকত, দ্বীপ কিংবা দ্বীপপুঞ্জ মানুষের অবসর কাটানোর এক আকষর্ণীয় স্থান৷ তাই কক্সবাজার এবং সেন্টমার্টিনে পর্যটকরা আসবে এটাই স্বাভাবিক। তবে তা হতে হবে নিয়ন্ত্রিত। এটাকে সমস্যা না ভেবে সম্ভাবনায় পরিণত করতে হবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ট্যুরিজম খাত থেকে বছরে কয়েক কোটি মিলিয়ন রাজস্ব আয় করে। বাংলাদেশকেও সেই কৌশল রপ্ত করতে হবে।
এ কথা বলাই যায়, পর্যটনকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ সরকারের ২০৪১ সালের উন্নত রাষ্ট্রের ভিশন বাস্তবায়ন সহজ হয়ে যাবে। পরিকল্পনা থাকলে অর্জন করা যাবে এসডিজি ১৪ গোলও। এজন্য ট্যুরিজমকে প্রমোট করার পাশাপাশি পরিবেশ সচেতনতাও নিয়ে জোরালো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে হবে। সরকার জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১৯৯৯ সালে সেন্টমার্টিন দ্বীপকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে সরকার। তবে তা মানছে না কেউ।
সেন্টমার্টিনে ৬৮ প্রজাতির প্রবাল, ১৫১ প্রজাতির শৈবাল, ১৯১ প্রজাতির মোলাস্ক বা কড়ি-জাতীয় প্রাণী, ৪০ প্রজাতির কাঁকড়া, ২৩৪ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, ৫ প্রজাতির ডলফিন, ৪ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ২৮ প্রজাতির সরীসৃপ প্রাণী, ১২০ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ১৭৫ প্রজাতির উদ্ভিদ, ২ প্রজাতির বাদুড়সহ নানা প্রজাতির বসবাস ছিল। এসব প্রাণীর অনেকগুলোই এখন বিলুপ্তির পথে। জলবায়ু পরিবর্তনের কঠিন চ্যালেঞ্জ আর অধিক দূষণের কারণে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে এসব জীববৈচিত্র্য।
চলতি বছরের ৪ মে জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের ব্লু ইকোনোমি সেল আয়োজিত সমুদ্র  অর্থনীতি নিয়ে প্রাক-বাজেট আলোচনায় সেভ আওয়ার সি’র মহাসচিব মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক বলেন, সমুদ্র থেকে সত্যিকার অর্থে লাভবান হতে হলে এসডিজি-১৪ অনুযায়ী আমাদের এগোতে হবে। যদি আমরা সাগরে ইকোলোজিক্যাল সার্ভিসটা সঠিকভাবে নিশ্চত করতে পারি, তাহলে ইকোনোমিক্যাল সার্ভিসটা সঠিক ও টেকসই হবে। ইকোলোজিক্যাল সার্ভিসটা সঠিকভাবে নিশ্চত করতে হলে রিয়েল ওশানোগ্রাফার তৈরি করতে হবে, কনসার্ভেশন ভ্যালু বুঝতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে আমাদের দেশে যারা সমুদ্র বিজ্ঞানের অ্যাকাডেমিশিয়ান তারা ডাঙ্গায় বসে সমুদ্র বিষয়ক গবেষণা করেন। তাদের লোনা পানিতে নামতে হবে। আমাদের কাছে বঙ্গোপসাগরের প্রাণীজ সম্পদ বিষয়ক কোনো ডেটা নেই। যদি এখনই সাগরের ফিশিংকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে মৎস সম্পদ যা আছে, তা আগামী দশ বছরে হারিয়ে যাবে।
কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের উপদেষ্টা বিশ্বজিত সেন এক সেমিনারে দাবি করেন, এখনি রক্ষা করা না গেলে এই দ্বীপটি সাগরেই বিলীন হয়ে যাবে। বাকি আছে কেবল শ্রীহীন এই দ্বীপটির পানিতে ডুবে যাওয়ার দৃশ্য দেখার। তিন বছরের জন্য সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের ভ্রমণ বন্ধ রাখতে হবে। তাহলে এই সময়ের মধ্যে সেন্টমার্টিনকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সহজ হবে।
ছবির ক্যাপশন: সেন্ট মার্টিন সমুদ্র সৈকতে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক সংস্থা ওশান কনজারভেন্সি ও কেওক্রাডং বাংলাদেশের আয়োজনে ইন্টারন্যাশনাল কোস্টাল ক্লিনআপ দিবস উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন স্থানীয় স্কুলশিক্ষার্থীরা। ছবি: মোস্তাফিজুর রহমান



Sunday, November 10, 2019

টানা ছুটিতে ‘বুলবুল’ বাগড়ার পর সমুদ্রস্নানে পর্যটক, তৎপর লাইফগার্ড

টানা ছুটিতে ‘বুলবুল’ বাগড়ার পর সমুদ্রস্নানে পর্যটক, তৎপর লাইফগার্ড
ছুটিতে বেড়াতে গিয়ে বৈরি আবহাওয়ায় হোটেলে আটকে পড়ার পর অবশেষে সমুদ্রে আনন্দে মেতেছেন পর্যটকরা। তাদের ওপর সজাগদৃষ্টি লাইফগার্ডদের। ছবি: ইত্তেফাক

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ খুলনা-বাগেরহাট-পিরোজপুর এলাকায় আঘাত হানার পর দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। এখনও উত্তাল রয়েছে সাগর। কক্সবাজারে ভোর থেকে ঝলমলে রোদ থাকলেও দুপুর গড়াতেই বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। থেমে থেমে হওয়া বৃষ্টি স্থবির করে তুলেছে জনজীবন। এদিকে টানা ৩ দিনের ছুটিতে কক্সবাজারে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকরা বৃষ্টিপাত উপেক্ষা করে সমুদ্রস্নানে মত্ত হয়েছেন।তাদের পাশে থেকে বিপদ সম্পর্কে হুশিয়ারি করছেন সী সেইফ লাইফগার্ড কর্মীরা।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানিয়েছেন, সেন্টমার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকরা স্বাভাবিক পরিবেশে নিরাপদে রয়েছেন। এখনও ৩ নম্বর সংকেত বলবত রয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে পর্যটকদের স্বল্পমূল্যে আহার ও আবাসন নির্বিঘ্ন করা হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়া কেটে গেলে সোমবার জাহাজ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন যারা আটকে পড়েছেন তারা ফিরে যেতে পারবেন। ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের সবকিছু দেখভাল করা হচ্ছে।
কেয়ারি সিন্দাবাদ ও কেয়ারি ক্রজ এন্ড ডাইয়িং এর ব্যবস্থাপক শাহ আলম জানিয়েছেন, আগামীকাল সংকেত কমলে জাহাজ সেন্টমার্টিন দ্বীপের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। এদিকে, সী সেইফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার মো. ওসমান গনি জানান, ঘূর্ণিঝড় খুলনা এলাকায় অতিক্রম করার তথ্য জানার পর রবিবার ভোর থেকেই সব বয়সী পর্যটক সৈকতে নেমেছে। সাগর স্বাভাবিকের চেয়ে উত্তাল রয়েছে। পর্যটকদের ওপর সতর্কদৃষ্টি রাখা হচ্ছে। যারা একটু বিপদ সীমা অতিক্রম করছেন তাদের কাছে গিয়ে নিরাপদ দূরত্বে নিয়ে আসা হচ্ছে।
ঢাকা থেকে সপরিবারে আসা সাজ্জাদুল হক বলেন, শনিবার রুমেই বন্দি থাকতে হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের আতংক কেটে যাওয়ায় সকাল থেকেই সবাই মিলে বিচে আনন্দ করেছি।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেছেন, যেকোনো ধরণের দুর্যোগ এড়াতে আমাদের প্রস্তুতি ছিল। স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারের পানি বাড়ায় মহেশখালী, কুতুবদিয়াসহ উপকূলের নিচু এলাকায় কিছুটা পাব্লিত হয়েছে বলে খবর পাচ্ছি। সংশ্লিষ্ট ইউএনওদের এসব বিষয় খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া আছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, জেলার আইন-শৃঙ্খলা নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ নজর রেখে মাঠে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। টুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি পর্যটন এলাকাতেও আমাদের দৃষ্টি রয়েছে।
ইত্তেফাক/এসি